ফরাসী প্রেসিডেন্টের কেন এত ইসলাম বিদ্বেষ?
ইসলাম মানে শান্তির ধর্ম সেটা কেবল আমরা নয়, তারাও জানে। ইউরোপের ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি সামনে টানলেই ফোঁটে উঠবে কেমন ছিল তার ইতিহাস। কারা গড়েছিলেন আধুনিক ইউরোপের ভিত্তি? সেই মুসলিম শাসকেরা কি রক্ত দিয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাকি শান্তি ও চারিত্রিক শক্তি দিয়ে? অবশ্যই উত্তর পাবেন শান্তির পক্ষে। কিন্তু তারপরও কেন এই উন্মাদনা ? কারণ, অনেক কিছুই থাকলেও মৌলিক কারণ একটিই, অব্যর্থ টিকা ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা।
বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ তার প্রেসিডেন্সির ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই তিনি ইসলাম ফোবিয়া ছড়ানোর মত জঘণ্য হাতিয়ারটি ব্যবহার করতেছেন। কারণ, ফ্রান্সের রাজনীতির মাঠে এটি একটি অব্যর্থ হাতিয়ার।
এর পেছনেও রয়েছে কিছু তিক্ত সত্য। বছর খানেক আগে আল-জাজিরা চ্যানেলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছিল যে, ইসরাইলের কতিপয় ধনকুবের পাশ্চাত্যে ইসলাম ফোবিয়া ছড়ানোর জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতেছে ! এর মানে এটি অতি সহজেই প্রতীয়মান যে, এই ইসলাম ফোবিয়া একদিনে গড়ে উঠেনি বরং এর পেছনে কাছ করেছে সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত দীর্ঘদিনের ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র !
উল্লেখ্য, করোনা ফ্রান্সের অর্থনীতির সকল শিকড় নড়বড়ে করে দিয়েছে। বিশ্বে আলোচিত করোনা হটস্পট সমূহের মধ্য ফ্রান্স অন্যতম। কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে তার প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ জুলাইয়ে পদত্যাগ করেন। এখন দেশটিতে আবারো হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার পর সায়েন্টিফিক রিসার্চের সমাজবিজ্ঞানী ল্যঁরা মুচ্চেলি মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ‘মাত্রাতিরিক্ত’ তৎপরতা দেখাচ্ছেন এবং তার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। তার মতে, মি ম্যাখোঁর মাথায় এখন বিশেষ করে ২০২২ সালের নির্বাচনের কথা ঘুরছে।
‘ম্যাখোঁ আগুনে ঘি ঢালছেন’, বিবিসিকে বলেন মি. মুচ্চেলি। ‘তিনি চাইছেন জনগণ যেন মনে না করে যে তিনি ডানপন্থী বা কট্টর ডানপন্থীদের চেয়ে এক পা হলেও পিছিয়ে। তার প্রধান লক্ষ্য ২০২২ সালের নির্বাচন জেতা। উনবিংশ শতাব্দী থেকেই তাদের (কট্টর ডানপন্থীদের) প্রধান টার্গেট অভিবাসন এবং নিরাপত্তা’।
গত সপ্তাহে একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই ইস্যুতে অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ও অভিবাসী-বিদ্বেষী রাজনীতিক মারি ল পেনের ওপর ভরসা করেন। ১৮ মাস পর যে নির্বাচন হচ্ছে সেখানে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন মারি ল পেন।
তাদের রাজনৈতিক ঘৃণ্য উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন আমরা আমাদের প্রাণের চেয়েও প্রিয় মানুষটি নিয়ে কুরুচিপূর্ণ এই আচরণের জবাব খালি হাতে দিতে পারি না। অবশ্যই তার মধ্যে থাকতে হবে শালীনতা ও শিষ্টাচারের সমাহার। ডেনমার্ক যখন একই রকম ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল তখনও ধর্মপ্রাণ ও শান্তিপ্রিয় মুসলিম জনতা জবাব দিয়েছিলেন পণ্য বয়কট, বিক্ষোভ মিছিল, পতাকা পুড়ানো ইত্যাদি। তবে, তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর ছিল পণ্য বয়কট। কারণ, তাদের অধিকাংশ ব্রান্ড পণ্যের গ্রাহক হল মুসলিম প্রধান দেশ গুলো। ফলে, দেশটি তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। তাই, ঐক্যবদ্ধ পন্থায় সিদ্ধান্ত নিলে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতেও মোক্ষম জবাব দেয়া সম্ভব। এবং ফরাসীদের বুঝিয়ে দিতে হবে মুসলিমরা বিশ্বের মানচিত্রে শেকড়হীন পরগাছা নয়।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন