পোস্টগুলি

'আর চাই না মেধা পাচার'

ছবি
প্রথমে যা বলতে চাই, বিজ্ঞজনেরা বলেন, 'যে দেশে গুণীজনের কদর নেই, সে দেশে গুণীজন জন্মায় না।' অথচ আমাদের দেশে এ রোগটি অত্যন্ত জটিল আকৃতি ধারণ করেছে ! আমরা প্রত্যক্ষ করতেছি এদেশের অনেক কৃতিসন্তান ভিন দেশে গিয়ে জ্ঞান, গবেষণা তথা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে অকৃত্রিম ভুমিকা পালন করতেছে। কিন্তু, এ দেশে তারা সময় দিতে চায় না কিংবা পারে না। কারণ, এ দেশের কর্তৃত্বশীলরা কোন সৃজনশীল, দেশপ্রেমিক মানুষকে মূল্যায়ন তো করেন‌ই না সঙ্গে ক্ষণে ক্ষণে তাদের সামাজিক মর্যাদা খর্ব করার জন্য এক পা খাড়া হয়ে থাকে ! এবার আসি মূল কথায়, বিভিন্ন মিডিয়ার সমসাময়িক রিপোর্ট মতে, বর্তমানে প্রায় আট মিলিয়নের‌ও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। অনেক দেশের মূল জনসংখ্যা‌ও ক্ষেত্র বিশেষে তার সমান কিংবা তার থেকেও একটু কমবেশি। প্রবাসীদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা রয়েছে, যারা এলিট শ্রেণির। তারা জ্ঞান, গবেষণায় রাখতে‌ছেন নিত্য নতুন ভুমিকা। অথচ তারা ছিলেন এদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সমূহের বাছাই করা তথা জাতীয় মেধার স্বাক্ষর বহন‌কারী কীর্তিমান, উদীয়মান, সৃজনশীল ব্যক্তি। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সেই মেধাবী ম...

■ একটি জান্নাতী পুষ্প : মুস‌আব বিন উমাইর রা.

ছবি
জীবনের অর্থ কি কিংবা বান্দা‌র সাথে তার মনিবের সম্পর্ক‌ইবা কেমন হবে? তার রূপ যে মানব-মানবীরা রেখে গেছেন তারাই হলেন নবিজীর সা. সাহাবা রা.। যারা পেয়েছিলেন দয়াময়ের সন্তুষ্টির স্বীকৃতি স্বয়ং ইহকালে থেকেই, পেয়েছিলেন জান্নাতে‌র আশ্বাস। যারা ধারণ করেছিলেন গোলাপের ন্যায় সৌরভ, ছড়িয়েছিলেন নক্ষত্রের ন্যায় রশ্মি যার সৌরভ কিংবা রশ্মি আজ‌ও পৃথিবী জুড়ে অমৃত। এমন একটি অমৃত গোলাপ‌কে নিয়ে‌ই আজকের এ লেখা-   ◆ প্রাথমিক পরিচিতি নাম মুসয়াব, কুনিয়াত আবু মুহাম্মদ। ইসলাম গ্রহণের পর লকব হয় মুসয়াব আল-খায়ের। মুসআব বিন উমাইরের রা. জন্মের প্রকৃত সাল জানা যায়নি। অনুমান করা হয় তিনি ৫৯৪ থেকে ৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬১৪ সালে তরুণ বয়সেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি কুরাইশ বংশের বনু আব্দুর দার শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। মুসআবের রা. পিতা উমাইর ইবনে হাশিম এবং মাতা খুন্নাস বিনতে মালিক। তাঁর মাতা অনেক বেশি বিত্তশালী ছিলেন। তাই তিনি তাঁকে অতিসযতনে বড় করেছেন। তাই তাঁর চলন,কথনে ছিল ভিন্ন মাত্রা ! তরুণ বয়সেই তিনি কুরাইশ বংশের বড়দের জমায়েতে অংশগ্রহণের জন্যে অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন।   ◆ যেভাবে ইসলামের ...

এরদোগান : শতাব্দীর প্রতীক্ষিত নেতা

ছবি
প্রেসিডেন্ট এরদোগান একটি নাম, একটি আশার প্রদীপ। পৃথিবীজুড়ে মুসলিম জাতির উপর চলছে উপর্যুপরি নির্মম কষাঘাত। শোকাহত এই মুসলিম জাতির কাছে শত প্রতীক্ষিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। যেখানে পুরো পৃথিবীর পরাশক্তি গুলোর নেতৃত্ব আপন ক্ষমতার দাপটে মানুষ গুলোকে তটস্থ রাখতে ব্যস্ত, সেখানে তিনি নিষ্পেষিত মানুষের ছায়া হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। চাই তারা বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী। অপ্রিয় হলেও নির্ঘাত সত্য যে, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহের শাসকেরা ক্ষমতার মোহে ইহুদি, খ্রিস্টান তথা অবিশ্বাসীদেরদের অঘোষিত পা চাটা গোলামে পরিণত হয়েছে, সেখানে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে শোষকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ও চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হয়। স্থাপন করেছেন সততা, নিষ্ঠা তথা সাহসিকতার জলন্ত দৃষ্টান্ত। তাঁর ক্ষমতা‌র অভিষেক থেকেই তিনি প্রত্যেক‌টি সেক্টরকে সংস্কারে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছেন। এনেছেন অভাবনীয় সাফল্য। আতাতুর্কের সেই সেক্যুলার রাষ্ট্রটি‌কে পুরোপুরি পরিবর্তিত করতে না পারলে‌ও অনেক কিছুতেই ইসলামী আদর্শের ব্যবহারিক নিপুণতা নিয়ে আসতে সচেষ্ট হয়েছেন। পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে যে জাতি তার স্বকীয়তা হারিয়েছিল, সে ...

আরেকজন সালাহ্উদ্দীন আইয়ুবী‌র প্রতীক্ষায় মুসলিম উম্মাহ্

ছবি
নীল আকাশ আজ তার আপন স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেছে। অনার্থ মানুষের রক্তে সবুজ পৃথিবী ধারণ করেছে লোহিত বর্ণ। নদী কিংবা সাগর তার চিরাচরিত গতি হারিয়ে ফেলে মন্থর প্রায়। নিপীড়িতের প্রলাপ দেখে বনের পাখি গুলো নির্লিপ্ত কান্নার গুঞ্জন তুলেছে সর্বত্র। তাদের সেই কান্নায় পৃথিবীবাসীর ঘুম না ভাঙলে‌ও সদাজাগ্রত আল্লাহ পাক উদাসীন নন। যখন তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার সেই তিন বছরের শিশুটির ভাষায় ফরিয়াদ জানায়-       ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’ (ওয়ার্ল্ড বাংলা ডটকম, মার্চ-১১, ২০১৬) যার প্রতিফলন ঘটে নিম্নোক্ত আয়াতে- ‘আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করছো না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে যারা বলে হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান করুন। এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষাবলম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও। ’ (সূরা  আন নিসা : ৭৫) নবীজির ভাষায়, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন; ‘মাজলুমের বদদোয়া থেকে বাঁচো, কেননা মাজলুমের বদদোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।’ (বুখারি) অর্থাৎ তার ফর...

ক্রন্দনশীল চক্ষু, আল্লাহ‌র অতিপ্রিয় বস্তু

ছবি
আমরা মানুষ।  আমাদের প্রকৃতি‌ই হচ্ছে ভুল-শুদ্ধের চক্রে বিচরণ। কারণ, ফেরেশতারাই কেবল গুণাহ বা ভুল করতে পারে না। কেন পারে না সে এক বিস্তর ব্যাখ্যার বিষয়; এখানে তার অবকাশ নেই। তবে, সমস্যাটি সেখানে নয়, অন্য জায়গায়। যারা কোন ভুল বা গুনাহ করে, তাদের অনেকেই হতাশ হয়ে লক্ষ্যহীন ভ্রষ্ট পথিকে রূপান্তরিত হয়। ফলে, আগে যে  ভুল করেছিল তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ভুলে (গুনাহ) নিজেকে নিমজ্জিত করে ফেলে নিজের‌ই অজান্তে! তাহলে উপায় ? উপায় খুব সুন্দর ও সুস্পষ্ট। তার আগে জানতে হবে ভুল/গুনাহ সম্পর্কে আর‌ও অজানা কিছু কথা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- 'সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন! তোমরা যদি গোনাহ না করতে তাহলে আল্লাহ তোমাদের ধ্বংস করে দিতেন এবং নতুন এমন এক জাতি সৃষ্টি করতেন, যারা গোনাহ করত আবার পরক্ষণেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতো। তার তিনি তাদের ক্ষমা করে দিতেন।’ (মুসলিম)।  কি বুঝলেন ? যে জিনিসটির (ভুল/গুনাহ) জন্য আপনি হতাশার গ্রহে আবদ্ধ হয়েছেন, অথচ সে জিনিসটির শূণ্য উপস্থিতির জন্য আল্লাহ পাক একটি জাতিকে বিলুপ্ত করতে চান। কারণ কি ? কারণ একটাই কোন মানুষ যখন হঠাৎ গ...

'ইতিহাসের শিক্ষা'

ছবি
স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। এটাকি কোন মামুলি ঘোষকের ঘোষণা ? না, ব‍রংচ এটি চিরন্তন ও বৈজ্ঞানিক সত্য কথা। তবে, এখানে একটি 'কিন্তু' রয়েছে ! সেই 'কিন্তু'-কে নিয়েই বাকি লেখাটুকু। আশা করি, শেষ বাক্য পর্যন্ত সাথে থাকবেন। মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে আমরা জানি যে, জান্নাতে হযরত আদম ও হাওয়া (আঃ) শয়তানের কি ধোঁকাবাজির শিকার হয়েছিলেন! পেয়েছিলেন কতশত মানসিক যন্ত্রণা! তা জানতে কুরআনের পাতায় ক্ষণিকের জন্য চোখ বুলিয়ে আসি- আদেশ করলেন-‘হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাকো এবং যেখান হতে ইচ্ছা খাও। তবে তোমরা এই বৃক্ষের নিকটে যাবে না। যদি যাও তবে জুলুমকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সূরা আ’রাফ-আয়াত : ১৯) "এরপর শয়তান, আদম ও তার স্ত্রীকে পথভ্রষ্ট করল এবং তারা যে বেহেশতে ছিল সেখান থেকে তাদেরকে বহিস্কার করল। সে সময় তাদেরকে বললাম তোমরা নীচে নেমে যাও একে অন্যের শত্রু হিসাবে। পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল।"(২:৩৬) "অতঃপর হযরত আদম (আ.) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, (এবং তাওবা করলেন) অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ...

'অনুভূতি‌হীন মানুষের জীবন মানে ফলহীন বৃক্ষ'

ছবি
প্রত্যেক সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন যে, আল্লাহ পাকের অন্যান্য আট-দশটা সৃষ্টির মত মানুষের কাজ কেবল খাওয়া-ঘুমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার রয়েছে প্রভুর পক্ষ থেকে অর্পিত অঢেল দায়িত্ব। তার জীবনের প্রতিটি বাঁকের রয়েছে সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে আল্লাহ পাক বলেন, ‘আমি জিন ও মানবজাতিকে শুধুমাত্র আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। অর্থাৎ ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা যারিয়াত : আয়াত ৫৬) ইবাদতের অর্থ: আরবি ‘ইবাদত’ শব্দটি ‘আব্‌দ’ শব্দ হতে এসেছে। আর ‘আব্‌দ’ অর্থ হলো দাস বা গোলাম। সুতরাং ‘লিয়া’বুদুন তথা ইবাদত’ মানে হলো- আল্লাহর গোলামি বা বন্দেগি করা।  এখন প্রশ্ন হল গোলামী বা বন্দেগীটা কী রকম? তা নিয়ে আল্লাহ পাক অন্য জায়গায় বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদেরকে যা দেন (নিয়ে এসেছেন), তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়‌ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সুরা হাশর : আয়াত ৭) অর্থাৎ আমরা এখান থেকে চলার পথে রোডম্যাপ যায়। জেনে যায় বন্দেগীর প্রকৃত ধরন। কি সেই রোডম্যাপ? সহজ কথায় তা হলো আল্লাহর রাসূল সা. যা করতে নিষেধ করেছেন তার থেকে বিরত...