'মা-দিবস' : ইসলামী সংস্কৃতির সাথে বৈপরীত্য কতটুকু?
প্রথম কথা,
আসলে আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক ত্রুটির কারণে জ্ঞানের জগতে দেউলিয়াত্বের শিকার হয়েছি, হচ্ছি ! যা বলা সহজ হলেও উপলব্ধির জগতে গাম্ভীর্যতার দাবি রাখে। কারণ, একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষাব্যবস্থা আর সেই জায়গায় যদি মৌলিক গলদ তৈরি হয়, তাহলে সে জাতি আপন স্বকীয়তা, স্বাতন্ত্র্য হারাতে বেশি সময় লাগে না। যা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক মাত্রই উপলব্ধি করতে সক্ষম।
এখন মূল কথা,
আমরা ভালোভাবে জানি না ইসলাম নারীদের কেমন মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন। বুখারী শরীফের হাদীসে একটি ঘটনার বর্ণনা এসেছে যেখানে এক সাহাবী রা. আল্লাহর রাসূলের সা. কাছে বারবার একই প্রশ্ন করেছিল যে, হে আল্লাহর রাসূল সা. আমার ঈমান আনার কারণে আল্লাহ পাক কি আমার সব গোনাহ মাফ করে দিয়েছেন রাসূল সা. বললেন হ্যাঁ দিয়েছেন (বারবার)। কিন্তু, সাহাবী রা. ঘনঘন একই প্রশ্ন আওড়াতে থাকলেন তখন রাসূল সা. তাঁকে বললেন তুমি এমন কি গোনাহ করেছ যা তোমাকে ভুলতে দিচ্ছে না। তখন সাহাবী রা. ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মেয়ে সন্তান হওয়ার দরুন তাকে(নিজের মেয়েকে) পাথর চাপা দিয়ে মেরে ফেলার এক বিমর্ষময় কাহিনী বিস্তারিত বর্ণনা করলেন যা শুনে ততক্ষণে রাসূল সা. এর পবিত্র দাঁড়ি মোবারক অশ্রুজলে সিক্ত হয়ে গেল। শোকাহত হৃদয়ে রাসূল সা. বললেন মানুষ কিভাবে এরকম নির্মম কাজ করতে পারে। এরপর থেকে রাসূল সা. নারী মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কতিপয় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন : ঘোষণা দিয়েছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত। বলেছেন, যে(বিশ্বাসী) কোন মেয়ে সন্তান পেয়ে তাকে সন্তুষ্টির সাথে লালন পালন করল তার জন্য আল্লাহর জান্নাত। আল্লাহ পাক তাঁর হাবিবের মাধ্যমে আমাদের জানালেন মা-বাবাকে 'ও' পর্যন্ত বলিও না। অর্থাৎ ইসলাম সামগ্রিকভাবে সারাক্ষণ, সারাজীবন মায়ের, বাবার অধিকারের কথা বলে সুনির্দিষ্ট একটি দিন বা মুহূর্তের জন্য নয়।
যে কথা না বললে নয়,
পাশ্চাত্যরা কাঠামোগত উন্নয়ন ঘটালেও নৈতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়েছে, হারিয়েছে মানবতাবোধের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। তারা একটু বয়স হলেই মা-বাবাকে ওল্ডহোমে রেখে আসে এবং কেবল বছরের সুনির্দিষ্ট একটি দিনে তাদেরকে দেখতে যায় আর সারা বছর তাদেরকে সময় দেয় না শুধু খরচের জন্য টাকা পাঠায় ! তাই, তারা মা-দিবস, বাবা-দিবস পালন করে বছরের একটি দিনে তাদেরকে স্বরণ করে। চিন্তা করুন, জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি ; অতিকষ্টে লালন পালনকারী বাবার প্রতি এ কেমন শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ ! আর আমরা অজ্ঞতাবশত নৈতিকতা বিবর্জিত এই মানুষ সমূহের অন্ধ অনুসরণ করি !
শেষ কথা,
আমরা জাতি হিসেবে ঐশী জ্ঞানের অধিকারী ; তার আলোকে আমরা আমরণ মা-বাবাকে শ্রদ্ধা, সেবা করব ; তবে,পাশ্চাত্যের নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষের ন্যায় বছরের সুনির্দিষ্ট একটি দিনে তথাকথিত "দিবস" পালন করে নয়।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন