এরদোগান : শতাব্দীর প্রতীক্ষিত নেতা


প্রেসিডেন্ট এরদোগান একটি নাম, একটি আশার প্রদীপ। পৃথিবীজুড়ে মুসলিম জাতির উপর চলছে উপর্যুপরি নির্মম কষাঘাত। শোকাহত এই মুসলিম জাতির কাছে শত প্রতীক্ষিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। যেখানে পুরো পৃথিবীর পরাশক্তি গুলোর নেতৃত্ব আপন ক্ষমতার দাপটে মানুষ গুলোকে তটস্থ রাখতে ব্যস্ত, সেখানে তিনি নিষ্পেষিত মানুষের ছায়া হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। চাই তারা বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী। অপ্রিয় হলেও নির্ঘাত সত্য যে, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহের শাসকেরা ক্ষমতার মোহে ইহুদি, খ্রিস্টান তথা অবিশ্বাসীদেরদের অঘোষিত পা চাটা গোলামে পরিণত হয়েছে, সেখানে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে শোষকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ও চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হয়। স্থাপন করেছেন সততা, নিষ্ঠা তথা সাহসিকতার জলন্ত দৃষ্টান্ত। তাঁর ক্ষমতা‌র অভিষেক থেকেই তিনি প্রত্যেক‌টি সেক্টরকে সংস্কারে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছেন। এনেছেন অভাবনীয় সাফল্য। আতাতুর্কের সেই সেক্যুলার রাষ্ট্রটি‌কে পুরোপুরি পরিবর্তিত করতে না পারলে‌ও অনেক কিছুতেই ইসলামী আদর্শের ব্যবহারিক নিপুণতা নিয়ে আসতে সচেষ্ট হয়েছেন। পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে যে জাতি তার স্বকীয়তা হারিয়েছিল, সে জাতি আজ জানতে শুরু করেছে আপন পরিচয়, ফিরে পাচ্ছে হারানো সেই চৈতন্য এই সাহসী নেতা‌র পরশে। তাঁর শিশুকাল, যৌবনকাল, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে জীবনের প্রত্যেকটি বাঁকে বাঁকে রেখেছেন অনন্যতার চাপ। সেই ছোট বেলা থেকে শত সংগ্রাম বাধা-বিপত্তি এবং ষড়যন্ত্রের কালো থাবা উপেক্ষা করে তিনি আজকের বিশ্বনেতা এরদোগান।


 ■  যে রঙে র‌‌ঙিন ছিল তাঁর  শৈশব, কৈশোর এবং শিক্ষাজীবনঃ

রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলে 'জুরজু' বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিশুকাল কেটেছে কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে। তের বছর বয়সে আবার ইস্তাম্বুল চলে আসেন। এরদোগানের পরিবার ছিল দরিদ্র-অসহায়। তাঁর প্রতিপালনও হয়েছে দরিদ্র এক পরিবারে।

এক মাদরাসা কর্তৃক আয়োজিত তাঁকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এরদোগান যা বলেছিলেন তা হুবহু বাংলা অনুবাদে নিচে তুলে ধরা হল-


"যখন বাল্যকালে আমি মাদ্রাসাতে পড়তে যেতাম, তখন আমার এলাকার কিছু মানুষ আমাকে বলতেন-

"বেটা! কেন তোমার ভবিষ্যৎ খারাপ করছো?

তুমি কি বড় হয়ে মুর্দা (মৃতদেহ) নাহলানোর (গোসল করিয়ে পাক করে দেওয়া) কাজ করবে?

মাদ্রাসার ছাত্রদের গোসল করানো ছাড়া আর কি কোনো কাজ জোটে?

তাই বলছি কোনো ভালো স্কুলে ভর্তি হয়ে যাও আর নিজের ভবিষ্যত তৈরী করার চিন্তা ভাবনা করো।"

আমাকে এই প্রকার যারা উপদেশ দিতেন তারা বেশীর ভাগই বয়স্ক-বৃদ্ধ হতেন। তাই আমি তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বগলে বই দাবিয়ে "মাদ্রাসা ইমাদুল খতিব" -এর পথে হাঁটা দিতাম।

এরদোগান বলেন - তাঁর পিতা একজন ফল বিক্রেতা ছিলেন। তাঁদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না। কোনো কোনো দিন 'তরকারীর' পরিবর্তে 'তরমুজ' দিয়ে রুটি খেতে হতো। বাবা-মায়ের দ্বীন-ইসলামের প্রতি টান ছিলো। তাই তাঁরা আমাকে 'কোরআনে হাফেজ' করার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। আর সময় গতির সঙ্গে দৌঁড়াতে থাকলো এবং আমি ইস্তানবুলের মাদ্রাসা থেকে ১৯৭৩ সালে নিজের অধ্যয়ন অধ্যায় শেষ করলাম। 'কোরআন' পড়ার সাথে হেফজও সম্পন্ন করলাম। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়েও পদার্পণ করলাম। আমি তুর্কির প্রসিদ্ধ "মারমারাহ ইউনির্ভাসিটি" তে ভর্তি হলাম। সেখান থেকে আমি 'অর্থশাস্ত্র' এবং 'প্রশাসনিক বিজ্ঞানে' মাস্টারস ডিগ্রী অর্জন করলাম। কিন্তু, প্রাসঙ্গিক শিক্ষা মাদরাসা থেকেই অর্জন করেছি।"


■ দাম্পত্য  জীবনের সূচনাঃ

প্রেসিডেন্ট এরদোগান ১৯৭৮ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন। বৈবাহিক জীবনে দুই মেয়ে এবং দুই ছেলের বাবা হয়েছেন তিনি। তার স্ত্রীর নাম এমিনি এরদোগান। তাঁকে আমিনা এরদোগান নামে‌ও ডাকা হয়। তার স্ত্রীও একেপার্টির নারী মুখপাত্র হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি‌ও তাঁর স্বামীর ন্যায় বিভিন্ন অসহায় অনাথ মানুষের পাশে দাঁড়াতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। ৭ই ডিসেম্বর ২০১৫ সালে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি এমিনি এরদোগানকে পাকিস্তানের বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিশান-ই-পাকিস্তান প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ২০১০ সালের অক্টোবরে এমিনি পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য পাকিস্তান সফরে আসেন এবং ভয়াবহ সে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এমিনি তুরস্কসহ বিভিন্ন মহলে পাকিস্তানের বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালান। এমনকি পাকিস্তান সফরকালে তার নিজের গলার হার বন্যায় দুর্গতদের সাহায্যে দান করেন। এমিনি এরদোগান ২০১১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি 'ক্রান্স মোনটেনা ফোরামে' র 'পিরিক্স ডে লা ফাউন্ডেশন' দ্বারা আয়োজিত ব্রাসেল্‌সে একটি সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন। এমিনি ২০১৬ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে বিশ্ব নেতাদের স্ত্রীদের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। তিনি তুরস্কের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ দাভুতোগলুকে সাথে নিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের খবর নিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এবং নিজ হাতে ত্রাণ বিতরণ করেছিলেন; সেসময় রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনার ঢেউ তুলে দেন। এছাড়াও তিনি বাল্যবিবাহ নিয়েও কাজ করেন। ২০১৮ সালে মানবতার সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ভিত্তিক সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব মুসলিম ফিলানথ্রপিস্ট' কর্তৃক 'গ্লোবাল ডোনারস ফোরাম'-এ সম্মাননা পদক লাভ করেন। সবমিলিয়ে এটাই বলতে হয় যে, প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে বিশ্বরাজনীতির ময়দানে তাঁর কোন জুড়ি নেই।


■ রাজনীতিতে নন্দিত নেতা এরদোগানঃ

সত্তর দশকে এরদোগান, নাজিমুদ্দিন আরবাকানের নেতৃত্বে "হিজবুল খালাসিল ওয়াতানি" দলে যোগ দেন। কিন্তু, ১৯৮০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তুরস্কের সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৮৩ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে, এরদোগান "হিজবু রাফাহ"-এ যোগ দেন। ১৯৯৪সালে "হিজবুর রাফাহ"র পক্ষ থেকে ইস্তাম্বুলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনিত হন এবং বিজয়ও লাভ করেন। ইস্তাম্বুলের মেয়র হন। ১৯৯৮ সালে ধর্মীয় উগ্রতার(!) অভিযোগে তাঁকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। এমনকি, এক রাজনৈতিক সমাবেশে কিছু ইসলামি কবিতা পাঠ করার কারণে তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়।

তুর্কি ভাষায় লিখিত কবিতাগুলোর বঙ্গানুবাদ নিম্নরূপ-

‘মসজিদ আমাদের ক্যান্টনমেন্ট,

গম্বুজ আমাদের হেলমেট,

মিনার আমাদের বেয়নেট,

মুসল্লিরা আমাদের সৈনিক

এবং এই পবিত্র দল পাহারা দিবে আমাদের দীনকে"

(ইসলামী ভাবধারায় সজ্জিত হ‌ওয়ার কারণে এই কবিতার মধ্যেও ধর্মীয় উসকানির গন্ধ খুঁজে পায় সেক্যুলার শাসকরা !)


◆ তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এরদোগানঃ

১৯৯৪ সালে বিপুল ভোটে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন এরদোগান। এ সময় তিনি দেড় কোটি লোকের এ শহরটির ট্রাফিক জ্যাম এবং বায়ু দূষণ রোধে ব্যাপক দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়া‌ও ইস্তাম্বুলের অনেক উন্নতি সাধন করেন। ২০০২ সালে আব্দুল্লাহ গুলের নেতৃত্বে এরদোগানের (এ কে পি পার্টি) বিপুল ভোটে জয় লাভ করে। পরপর (২০০৭, ২০১১,২০১৪) সংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী হন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এরদোগান তুরস্কের সামাজিক, অর্থনৈতিক সহ সব খাতে ঐতিহাসিক উন্নতি ও সংস্কার সাধন করেন। সেই সাথে বহির্বিশ্বের সাথেও সম্পর্ক জোরদার করেন। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলোর সাথে (ভিসা, সীমান্ত ইত্যাদি বিষয়ে) শিথিলতা নিয়ে আসেন।


◆ গাজার অসহায় ভাই-বোনদের পাশে এরদোগানঃ

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি গাজায় নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য বিভিন্ন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা প্রেরণ করেন। ইসরাইল-আমেরিকার শত বাধা এবং চোখ রাঙ্গানী সত্ত্বেও তিনি গাজার মজলুম মুসলমানদের পাশে ছিলেন। এখন‌ও আছেন। ইসরাইলের সাথে সব সম্পর্কও ছিন্ন করেন। কয়েক বছর আগে গাজা অভিমুখী তুরস্কের ত্রানবাহী জাহাজে ইসরাইল হামলা ক‍রে।


◆ 'বাদশাহ ফায়সাল' পুরস্কারে ভূষিত অনাথের বন্ধু এরদোগানঃ 

আমরা অনেকে জানি, 'মালিক ফায়সাল পুরস্কার' নোবেলের মত আন্তর্জাতিক একটি পুরস্কার যা সৌদি থেকে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম মনীষীকে দেয়া হয়, ইসলাম এবং মানবতার প্রতি অবদান রাখার জন্য। তুরস্কে ইসলাম এবং মুসলমানের জন্য অবদান রাখার কারণে, ২০১০ ইং, ১৪৩০ হিজীরী তে 'বাদশাহ ফায়সাল পুরস্কার কমিটি'র পক্ষ থেকে এরদোগানকে সেই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সেই সাথে ১৪৩১/৩/২৩ তারিখে "উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি''র পক্ষ থেকে তাকে 'ডক্টরেট ' ডিগ্রী প্রদান করা হয়।


◆ প্রেসিডেন্ট পদে সাহসী এরদোগানঃ

২০১৪ সাল। আরেকটি ইতিহাসের নাম। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে এরদোগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তিনি আধুনিক তুরস্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। যদিও দেশীয় ও ভিনদেশী অনেক ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে আদা জল খেয়ে নেমে গেছে। কারণ, তাঁর ক্ষমতায় আশার পর থেকে বিশ্বরাজনীতির অনেক হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে। 


◆ সেনা অভ্যুত্থান নিয়ন্ত্রণে বিপ্লবী এরদোগানঃ

২০১৬ সালের ১৬ই জুলাই তুরস্কে একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছিল। কিন্তু, মহান আল্লাহর কৃপায় সিপাহসালার এরদোগান তার গতি রোধ করতে সক্ষম হন। কারণটি ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কতিপয় বিদ্রোহী সেনারা 'শান্তি পরিষদ' নামে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেছিল। যখন প্রথম তুরস্কে অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন কয়েক ঘণ্টা ধরে দেশটির নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহী সেনাদের হাতে বলেই মনে হচ্ছিল। রাজধানী আঙ্কারা আর সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলের প্রধান স্থাপনাগুলোতে ছিল তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দখল করে নেয় সেনাবাহিনী এবং তাদের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। এত ঘটনার মধ্যে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের। অভ্যুত্থানকারীদের সেই মুহূর্তে দরকার ছিল সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ অংশের এবং জনগণের সমর্থন। কিন্তু, অভ্যুত্থানের চেষ্টা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম তা প্রতিরোধের চেষ্টা শুরু করেন। তবে, তুরস্কের বেশিরভাগ মানুষ জানে, প্রকৃত ক্ষমতা আসলে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের হাতে, এবং কিছু করতে হলে তাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা খুব ভালো করেই জানতো যে, অভ্যুত্থান সফল হতে হলে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু, তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। অভ্যুত্থানকারীদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হতে থাকে। কোনো কোনো খবরে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান যে হোটেলে ছিলেন সেখানে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু, ততক্ষণে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ফলে সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। অভ্যুত্থান সফল হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সমর্থনের দরকার ছিল। কয়েকটি বড় শহরে হয়তো অনেক সেনা সদস্য এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিল। অভ্যুত্থানকারীরা রাস্তায় অনেক ট্যাংক নামাতে পেরেছিল। তারা ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালীর ওপরের ব্রীজ বন্ধ করে দিতে পেরেছিল। কিন্তু, সেনাপ্রধান জেনারেল গুল হুলুসি আকার এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিলেন না। সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলে ছিল যে সেনা ডিভিশন, তার অধিনায়কও এই অভ্যুত্থান সমর্থন করেননি। নৌবাহিনী প্রধান এবং বিশেষ বাহিনীর প্রধানও অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেন। এফ-সিক্সটিন জঙ্গি বিমান থেকে অভ্যুত্থানকারীদের অবস্থানে বিমান হামলাও চালানো হয়। যুক্তরাজ্যের একটি থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউজের ফাদি হাকুরা বলেন, এই অভ্যুত্থান আসলে শুরু হওয়ার আগেই ব্যর্থ হয়। এদের পেছনে না ছিল রাজনৈতিক সমর্থন, না ছিল জনগণের সমর্থন। তুরস্কের প্রধান দলগুলো শুরুতেই জানিয়ে দেয় যে, তারা এর সঙ্গে নেই। ধর্মনিরপেক্ষ সিএইচপি, জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি সবাই সরকারকে সমর্থন জানায়। বলা হয়, সেনাবাহিনীর একটি অংশ এই অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করে। ইস্তাম্বুলেই মূলত তাদের ঘাঁটি। ফাদি হাকুরা মনে করেন, এরা সেনাবাহিনীর বিরাট অংশের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাদের ব্যর্থতা এটাও প্রমাণ করে যে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের পক্ষে আর সমাজের বেশিরভাগ অংশের কোনো সমর্থন নেই। এরদোগান এর আগে বহুবার সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার সরকার সেনাবাহিনীর মধ্যে অনেক শুদ্ধি অভিযানও চালিয়েছে।


■ প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্ডামে বিজয়ী এরদোগানঃ

এরদোগানের সাম্প্রতিকতম সাফল্য হলো প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্ডামে গণভোটে তিনি জয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশের সর্বময় ক্ষমতা লাভ করেছেন। তিনি সহজেই দেশের যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই গণভোটে জয়ী হয়ে এরদোগান দেখিয়ে দিলেন, কিভাবে অঙ্কের হিসাব পাল্টিয়ে দিতে হয়।


■ তুরস্কের নবরূপ আনয়নে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানঃ


ইইউ’র সাথে বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার চুক্তি তার অন্যতম সফলতা। নতুন ব্রিজ, বিমান বন্দরসহ বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে তলা বিহীন তুরস্ককে শক্তিশালী বাজারে পরিণত করেন তিনি। তার সরকার বিগত দশ বছরের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও তুর্কি লিরার (তুর্কি মুদ্রা) মূল্য পুনঃনির্ধারণ করে তুরস্কের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়। এরদোগান অতীতের সেক্যুলার সরকার কর্তৃক আরোপিত হিজাবের উপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেন, যা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের হৃদয়ে দাগ কাটে। তিনি অতীতে অটোম্যান শাসনাধীন দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিশ্বায়নে নেতৃস্থানীয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা প্রাপ্তিকে মূল লক্ষ্য রেখে বৈদেশিক নীতি (নব তুর্কীবাদ) গ্রহণ করেছেন। এছাড়া বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফলপ্রসুভাবে নিয়ন্ত্রণের কারণে বিশ্বমহলে তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। ২০১৬ সালের যে ঘটনা তাঁকে মহানায়কের পর্যায়ে নিয়ে আসে তা হলো সংঘটিত সামরিক অভুত্থানের ব্যর্থ প্রচেষ্টা। শুরু থেকেই অভ্যুত্থানের জন্য এ.কে পার্টির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনকে দায়ী করা হয়। যদিও ফেতুল্লা গুলেন তা অস্বীকার করেন। অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৬০০০ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে এই অভ্যুত্থানের সমালোচনা করা হয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভ্যুত্থান লজ্জাজনক বলে বিবৃতি দেন আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ। অভ্যুত্থানকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তিনি সংবিধান সংশোধনের চেষ্টাকরেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক্ষেত্রে তাদের সদস্যপদ না দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। উল্লেখ্য, তুরস্ক ইইউ-র সদস্যপদ পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন এনেও সদস্যপদ পেতে ব্যর্থ হয়। তবে, সবচেয়ে বড় বিষয় হল এরদোগান আল্লাহর দয়ায় এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁর আসন্ন সময়ের মিশনারী লক্ষ্যের প্রধান প্রধান বাধা গুলো চিহ্নিত করে ছাটাই করতে সক্ষম হন। সম্প্রতি উসমানী খিলাফতের ঐতিহ্য খ্যাত 'আয়া-সোফিয়া'-কে জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করে দেশের আপামর মানুষের আস্থা কুড়িয়েছেন। যদিও আমেরিকা বা ইউরোপীয় দেশগুলো তা ভালোভাবে নেয় নি। এরদোগান‌ও তাদের এক হাত নেন।


 ■ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তথা মুসলিম বিশ্বের সংকটে এরদোগানঃ


● রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক

২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের আরেকটি বড় ধরনের সুফল ছিল রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক গঠন। ২৪ নভেম্বর ২০১৫-তে তুরস্ক কর্তৃক রুশ বিমান ভুপাতিত হবার পর দু’দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়।  এতে দু’দেশের রেষারেষি চরম রূপ ধারণ করে। এরদোগান রাশিয়ার সমালোচনা করে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানিয়ে দেন। তবে, তিনি রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে আগ্রহী নন এবং সরাসরি আলোচনায় এ নিয়ে সমঝোতায় আসতে চান বলে বিবৃতি দেন। অবশেষে পুতিন ও এরদোগান বৈঠকে দু’দেশের সমঝোতায় সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়, তাতে পশ্চিমা নেতাদের ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরদোগান স্পষ্ট জানিয়ে দেন তুরস্ক কার সাথে সম্পর্ক করবে নাকি করবেনা তা নিয়ে অন্যদের মাথা ব্যথার কারণ নেই। ন্যাটোর অন্যতম সদস্য দেশটির কূটনৈতিক পর্যায়ে কোন প্রভাব ফেলবেনা বলে জানান। তবে, ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর তাদের এ সম্পর্ক সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে গেছে। কারণ, এরদোগান তাঁর গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে এটা জানতে সক্ষম হন যে, এই সেনা ক্যুর পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরাইল এবং আমেরিকার হাত আছে। অপরদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুরু থেকে এ অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেন যার ফলে এরদোগান কৌশলগত কারণে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। পুতিনের সাথে বসে এরদোগান অনেক অমীমাংসিত বিষয়ে দূরত্ব কমাতে সক্ষম হন। রাশিয়া তুরস্ককে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহ করেছে। যেখানে সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গলার কাটা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।


● সিরিয়া ইস্যু সমাধানে

সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া, সিরিয়া, তুরস্ক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে এরদোগান বিশেষ অবদান রাখেন। সংকট নিরসনে রাশিয়ার সাথে সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এছাড়া প্রেসিডেন্ট এরদোগান আইএস দমনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছেন যাদের আগমন সিরিয়া এবং ইরাকে ভয়ংকর দৃশ্যের অবতারণা করেছিল। তিনি বলেন আইএস জিহাদের নামে মুসলমানদের চরম ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ক্ষমতা লিপ্সুতার কারণে সেখানে যা প্রত্যাশা করেছিলেন তা পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, তিনি বাশারের লাগাম টেনে ধরতে আফরিন ও ইদলিবের দখল নিয়েছেন। পাশাপাশি আমেরিকার সমর্থিত কুর্দিদের নিয়ে‌ও কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছেন।


● ফিলিস্তিন ইস্যু : 

এরদোগান সবসময় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের পক্ষে কাজ করেছেন এবং এখন‌ও করছেন। কয়েক বছর আগে (২০১৭) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করার পর থেকে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেনে এরদোগান। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নেয়ার পর তিনি এক কঠিন বার্তা দিয়েছেন। (যদিও ট্রাম্প চেয়ার লোভী ঐ আরব্য নেতাদের কাছ থেকে তার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কিছু অর্জন করেছে যা সুদান পর্যন্ত গড়িয়ে‌ছে) পদক্ষেপ নিয়েছেন হামাস-ফাতাহ্'র মধ্যকার দূরত্ব নিরসনের এবং সুকঠিন ঐক্য গঠনের।


● রোহিঙ্গা ইস্যুঃ

 মায়ানমারের নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশে সর্বদাই সুদৃঢ় অবস্থান ছিল এরদোগানের। মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর মানবতাবিরোধী জঘন্য নির্যাতনের কঠোর সমালেচনা করেন তিনি। এছাড়া আন্তর্জাতিক মহলকে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার জন্য আহবান জানান তিনি। তাঁর স্ত্রী আমিনা এরদোগান তাঁদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন এবং তা নিয়ে বিশ্বনেতাদের স্ত্রীদের কাছে চিঠি লিখেন। এবং তার দেশের পক্ষ থেকে‌ও ত্রাণের ব্যবস্থা করেন। 



● কাশ্মির সমস্যাঃ 

পাকিস্তান সফরে এসে কাশ্মির নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এরদোগান। ভারত-পাকিস্তানকে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করতেও পরামর্শ দেন তিনি। তাছাড়া ইমরান খান কাশ্মীর ইস্যুতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে  যত সিদ্ধান্ত‌ই দিয়েছেন সব সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর সমর্থন ছিল। সম্প্রতি ইমরান খান কাশ্মীর ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা নেয়ার কারণে সৌদিআরবের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খানের এই সাহসী ভূমিকার পেছনে সামগ্রিক সমর্থন রয়েছে তুরস্ক ও কাতারের। কারণ, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে সৌদি আরবের সাথে ৬ বিলিয়ন ডলারের যে ঋণ চুক্তি ছিল তা ভেস্তে যায় এবং নগদ যে ৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে তা খুব দ্রুত ফেরত দিতে বলেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। চীনের সাহায্য নিয়ে তাৎক্ষণিক ১ বিলিয়ন ডলার ফেরত‌ও দিয়েছে ইমরান খানের সরকার।


● লিবিয়ায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নস্যাতে এরদোগানঃ

এরদোগান তাঁর দেশের সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে লিবিয়ায় যুদ্ধাবাজ নেতা খলিফা হাফতারের সকল গোঁড়ামিকে নস্যাৎ করে ইসলাম পন্থী এবং জাতিসংঘ সমর্থিত জিএন‌এ সরকারের অবস্থানকে সুদৃঢ় করণের মাধ্যমে আপাতত সকল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ওলটপালট করে দিয়েছেন। এবং সেখানকার বর্তমান অবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল। যদিও এক্ষেত্রে তুরস্ক রাশিয়া, ফ্রান্স, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপরীত অক্ষে অবস্থান করতেছে। তবে, কাতার, পাকিস্তানসহ অনেক দেশ তুরস্কের পক্ষে।


● আর্মেনিয়া - আজারবাইজান সংকটে এরদোগানঃ

পুরো তিন দশক ধরে আন্তর্জাতিক‌ভাবে স্বীকৃত আজারবাইজানী ভূখণ্ড জবরদখল করে রেখেছিল আর্মেনিয়া। অনেক‌বার যুদ্ধ করে আজারবাইজান বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কিন্তু হারানো ভুমি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় নি। এরদোগানের তুরস্ক আজারবাইজানকে এই ভয়াল অবস্থা থেকে বের করে আনে। তারা বিশ্বাস করে তুরস্ক ও আজারবাইজান হল এক জাতি দুই দেশ। তারা সরবরাহ করে করে উন্নত সব সমরাস্ত্র। প্রশিক্ষণ দেয় আজারী সৈন্যদের নতুন সমরাঙ্গনের কৌশল নিয়ে। যার ফলে এবারে যুদ্ধ শুরু হ‌ওয়ার পর থেকে আজারী সৈন্য‌রা নতুন মোড় নিতে সক্ষম হয়। ফিরে পায় হারিয়ে যাওয়া মনোবল। এরদোগান সরাসরি ঘোষণা দেন, তার দেশ আজারী ভাইদের নীতিগত দাবিকে সমর্থন করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই যুদ্ধে ফলাফল নিয়ন্ত্রণে তুরস্কের অত্যাধুনিক ড্রোন 'বেইরাকটার টিবি ২' ঈর্ষণীয় ভুমিকা রেখেছে এবং আজারবাইজান তার হারানো ভূখণ্ড ফিরে পেয়েছে।


● মুসলিম বিশ্বের প্রতি ঐক্যের আহবানঃ 

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে দু’দিনব্যাপী (ওআইসি) শীর্ষ  সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের ডাক দেন এরদোগান। এ সম্মেলনের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার বিদ্যমান তিক্ততা দূর করে সুসম্পর্কের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্য ছিল- আমাদের ধর্ম ইসলাম, শিয়া বা সুন্নি নয়। তিনি বারবার বলে আসছিলেন, আমাদের একতার মাধ্যমেই কেবল বিদ্যমান সমস্যার নিরসন সম্ভব। তিনি বলেন, ১৬০ কোটি মুসলমানের ভাগ্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি দেশের (স্থায়ী) উপর তুলে দেওয়া যায় না।


● কুয়ালালামপুর সম্মেলনঃ

সৌদ নেতৃত্বের ওআইসি নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার কারণে এরদোগান মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ইত্যাদি দেশকে নিয়ে মুসলিম বিশ্বের জন্য কার্যকরী কোন সংগঠন বা ভিন্ন এক প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করা যায় কিনা তা নিয়ে সচেষ্ট রয়েছেন। যদিও এ চেষ্টা পণ্ড করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে ষড়যন্ত্রের কমতি নেই। গত বছর “কুয়ালালামপুর ২০১৯” শীর্ষক সম্মেলন ১৮ থেকে ২১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় মুসলিম বিশ্বের চলমান ক্রাইসিসকে সামনে রেখে। তবে, সৌদি নেতৃত্বের হুমকির কারণে এই উদ্যাগের প্রথম সারির নেতা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেন নি। সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন-এই বৈঠকের মূল বিষয় হচ্ছে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় সার্বভৌমত্ব অর্জন করা। উল্লেখ্য, এই সম্মেলনে ইসলামী বিশ্বের ৪৫০ জন নেতা, রাজনীতিবিদ এবং চিন্তাবিদ অংশগ্রহণ করেছিলেন।


পরিশেষে শুধু একটি কথায়‌-ই বলবো, যেখানে পুরো মুসলিম জাতি প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য বঞ্চিত এবং নিপীড়িত হয়ে কাতর, ঠিক সেই মুহূর্তে এরদোগান নামক ধ্রুব তারাটি কোন একটি নির্দিষ্ট দেশের জন্য নয় বরং আপন কর্মের বলে পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য আসমানী নেয়ামত রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। এনে দিয়েছেন বেঁচে থাকার আশা। জাগিয়ে তুলেছেন উম্মাহ্ ভিত্তিক ধারণা। তাঁর জন্য অবিরাম দোয়া ও ভালোবাসা।


● তথ্য‌সূত্রঃ

১. এরদোয়ান : দ্যা চেঞ্জ মেকার, হাফিজুর রহমান(পিএইচডি)

২. আধুুনিক তুরস্ক ও এরদোগান : সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

৩. উইকিপিডিয়া

৪. রিপোর্ট‌ : বিবিসি বাংলা

৫. রিপোর্ট : নয়াদিগন্ত


মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"Quran is the only solution to humanity"

■ একটি জান্নাতী পুষ্প : মুস‌আব বিন উমাইর রা.

ফরাসী প্রেসিডেন্টের কেন এত ইসলাম বিদ্বেষ?