'আর চাই না মেধা পাচার'




প্রথমে যা বলতে চাই,

বিজ্ঞজনেরা বলেন, 'যে দেশে গুণীজনের কদর নেই, সে দেশে গুণীজন জন্মায় না।' অথচ আমাদের দেশে এ রোগটি অত্যন্ত জটিল আকৃতি ধারণ করেছে ! আমরা প্রত্যক্ষ করতেছি এদেশের অনেক কৃতিসন্তান ভিন দেশে গিয়ে জ্ঞান, গবেষণা তথা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে অকৃত্রিম ভুমিকা পালন করতেছে। কিন্তু, এ দেশে তারা সময় দিতে চায় না কিংবা পারে না। কারণ, এ দেশের কর্তৃত্বশীলরা কোন সৃজনশীল, দেশপ্রেমিক মানুষকে মূল্যায়ন তো করেন‌ই না সঙ্গে ক্ষণে ক্ষণে তাদের সামাজিক মর্যাদা খর্ব করার জন্য এক পা খাড়া হয়ে থাকে !


এবার আসি মূল কথায়,

বিভিন্ন মিডিয়ার সমসাময়িক রিপোর্ট মতে, বর্তমানে প্রায় আট মিলিয়নের‌ও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। অনেক দেশের মূল জনসংখ্যা‌ও ক্ষেত্র বিশেষে তার সমান কিংবা তার থেকেও একটু কমবেশি। প্রবাসীদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা রয়েছে, যারা এলিট শ্রেণির। তারা জ্ঞান, গবেষণায় রাখতে‌ছেন নিত্য নতুন ভুমিকা। অথচ তারা ছিলেন এদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সমূহের বাছাই করা তথা জাতীয় মেধার স্বাক্ষর বহন‌কারী কীর্তিমান, উদীয়মান, সৃজনশীল ব্যক্তি। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সেই মেধাবী মুখ গুলো আপন মাতৃভূমির জন্য সেবার কোটায় প্রায় শূন্য ! কিন্তু, কেন?


আসলে আমরা অতল দেশের কারণ সমূহ চিহ্নিত করতে চাই না। চাই না, সেই অজপাড়া গাঁয়ের কৃষকের ঘাম ঝরানো শস্য, শহরের জরাজীর্ণ বস্তিতে বাসরত কুলি-মজুরের অতিকষ্টে‌র পারিশ্রমিকে কেনা সেই দশ টাকা‌র বিস্কুট খানা থেকে শুরু করে ছোট বড় প্রতিটি কল কারখানার উৎপাদিত প্রত্যেকটি পণ্যের বদলে প্রদেয় করের অংশে যে মেধাবী মুখ গুলো‌র পড়ালেখার খরচ চালিত সেই মানুষ গুলো কেন নিজ মাতৃভূমিকে সেবা দিতে পারে না। কারণ, এদেশের নীতিনির্ধারকদের চেয়ারে বসে আছে একদল স্বার্থান্বেষী মহল। যারা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের কোনরূপ তোয়াক্কা করে না। দেশটাকে পরনির্ভরশীল ও আমদানি‌মুখী করতে চায়। চায় না, মেধাবীদের মেধা দিয়ে দেশটা সাজাতে। যার ফলে, এমন নীতি প্রণয়ন করা হয়, যেখানে থাকে না উৎপাদনমুখীতা কিংবা সৃজনশীলতা‌র অস্তিত্ব। তাই, থাকে না মেধাবীদের মেধার স্বীকৃতি তথা মূল্যায়ন। ক্ষেত্র বিশেষে দলীয় বিবেচনা‌য় ভুমিকা রাখতে না পারলে মাথার উপর নেমে আসে মানবসৃষ্ট দুর্যোগের খড়গ ! যার দরুন, এ দেশের সৃষ্টিশীল জনশক্তি আপন দেশে ভুমিকা রাখতে আশা হারিয়ে ফেলে। ফলে, তারা পাড়ি জমায় ভিন দেশে। রাখে অতুলনীয় ভুমিকা জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায়। তবে, এটাও ঠিক যে, এই উচ্চ শিক্ষিত এলিট শ্রেণির একটি অংশ অত্যধিক স্বার্থপর। যারা ধার ধারে না নিজ মাতৃভূমির স্বার্থের। তবে, এই সংখ্যা‌টি অতি নগন্য বললেও অত্যুক্তি হবে না।


যদি দেশের নীতিনির্ধারক‌রা সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতেন, তাহলে দেশের সম্পদ দেশেই থাকতো। বিদেশে‌র মাটিতে কখনও পাচার হতো না।


অথচ আমরা এদেশে অনেক সময় প্রত্যক্ষ করেছি, অবিরাম কাঠ খড় পুড়িয়ে বিভিন্ন গবেষক-বিজ্ঞানীরা নানারকম যে গবেষণা লব্ধ তথ্য, সূত্র তথা পণ্য কিংবা অন্য কিছু আবিষ্কার করেছে তা‌ও কতিপয় দুষ্টু, দুর্নীতি‌গ্রস্ত আমলা তথা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক‌দের কমিশন বাণিজ্যের ঘৃন্য থাবার দরুন  চূড়ান্ত আলোর মুখ দেখানো যায় নি ! কেবল, কমিশন পাওয়ার উন্মত্ত নেশায় সেই ত্যাগী গবেষকদের গবেষণা‌কে ফেলেছে ডাস্টবিনে! প্রমোট করেছে বৈদেশিক আমদানি‌কে !


শেষকথা,

মেধা পাচারের এই নেতিবাচক ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আমাদের অর্থনীতি তলানিতে গিয়ে ঠেকবে ! জাতি হারাবে আপন স্বকীয়তা ! রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ হবে ব্যর্থ ! তাই, সত্যিই যদি দেশকে ভালোবাসেন তাহলে মেধা ও মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে শিখুন। দুর্নীতিকে শক্ত হাতে দমন করুন।

মন্তব্যসমূহ

  1. আলহামদুলিল্লাহ! অনেক ভালো লিখলেন।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. অসংখ্য ধন্যবাদ সম্মানিত পাঠক আপনাকে। আপনার সৃজনশীল মন্তব্যের জন্য আল্লাহ পাক আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।

      মুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"Quran is the only solution to humanity"

■ একটি জান্নাতী পুষ্প : মুস‌আব বিন উমাইর রা.

ফরাসী প্রেসিডেন্টের কেন এত ইসলাম বিদ্বেষ?